
সন্তানের জন্য Home Tutor খোঁজার সময় বেশিরভাগ অভিভাবকের মনে প্রথম প্রশ্নটাই আসে মাসে টিউটর এর স্যালারি কত পড়বে। ঢাকায় হোম টিউটরের স্যালারি একেক জায়গায় একেক রকম হয়, কারণ এটা নির্ভর করে ক্লাস, সাবজেক্ট, টিউটরের অভিজ্ঞতা আর এলাকার উপর।অনেক অভিভাবক শুরুতেই একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা খুঁজে বেড়ান, কিন্তু বাস্তবে এটা অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে বলে কোনো একটা ফিক্সড স্যালারি বলা কঠিন। চলুন সহজভাবে বুঝে নেওয়া যাক, কোন কোন বিষয় মিলিয়ে স্যালারি ঠিক হয় এবং বাজেটের মধ্যে কীভাবে ভালো টিউটর Hire করা যায়।
প্রাইমারি ক্লাসের তুলনায় ও লেভেল, এ লেভেল বা এইচএসসি লেভেলের টিউটরের স্যালারি বেশি হয়। কারণ এসব ক্লাসে বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান দরকার হয়, আর পড়ানোর জন্য বেশি প্রস্তুতিও লাগে। ছোট ক্লাসে সাধারণত বেসিক পড়াশোনা আর হোমওয়ার্ক সহায়তা দিলেই চলে, কিন্তু বড় ক্লাসে বোর্ড পরীক্ষা বা নির্দিষ্ট সিলেবাস মাথায় রেখে পড়াতে হয়, যেটা তুলনামূলক বেশি সময় ও দক্ষতা দাবি করে।
সাধারণ সাবজেক্টের চেয়ে ম্যাথ, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রির মতো বিষয়ের টিউটরের স্যালারি একটু বেশি হয়ে থাকে, কারণ এসব সাবজেক্ট পড়ানোর জন্য ভালো Tutor তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। এছাড়া English Medium কারিকুলামে (Cambridge, Edexcel) পড়ানো টিউটরের স্যালারি তুলনামূলক বেশি, কারণ এই কারিকুলামে অভিজ্ঞ টিউটরের সংখ্যা বাংলা মিডিয়ামের তুলনায় কম।
বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বা অভিজ্ঞ টিউটরের স্যালারি তুলনামূলক বেশি হয়। নতুন টিউটরদের বেতন কিছুটা কম হতে পারে, তবে এর মানে এই না যে তারা কম ভালো পড়ান অনেক সময় নতুন টিউটররাও খুব যত্ন নিয়ে পড়ান কারণ তারা নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। তাই শুধু অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরাসরি কথা বলে বোঝা ভালো।
গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো এলাকায় সাধারণত বেতন একটু বেশি হয়, কারণ এসব এলাকায় জীবনযাত্রার খরচও বেশি এবং চাহিদাও বেশি। তুলনামূলক কম জনবহুল বা মধ্যম আয়ের এলাকায় খরচ কিছুটা কম হতে পারে। তবে লোকেশনভেদে এই পার্থক্য খুব বড় না হলেও, সামগ্রিক বাজেট পরিকল্পনার সময় এটা মাথায় রাখা ভালো।
সপ্তাহে যত বেশি দিন বা যত বেশি সময় পড়ানো হবে, স্যালারি সেই অনুযায়ী বাড়বে। কিছু অভিভাবক সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন পড়ানো পছন্দ করেন, আবার কেউ কেউ প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য পড়ানো পছন্দ করেন। কোনটা শিক্ষার্থীর জন্য কার্যকর হবে সেটা বিবেচনা করে সময় ঠিক করলে স্যালারি ও ফলাফল দুটোই ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
নির্দিষ্ট কোনো ফিক্সড স্যালারি নেই, তবে সাধারণত দেখা যায় প্রাইমারি ও জুনিয়র ক্লাসে খরচ তুলনামূলক কম থাকে, এসএসসি ও এইচএসসি লেভেলে খরচ একটু বেশি হয়, ইংলিশ মিডিয়াম ও ও/এ লেভেলে খরচ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে, এবং এডমিশন বা স্পেশাল সাবজেক্ট (Physics tutor, Math tutor) এর জন্য আলাদা চাহিদা থাকে টিউটরদের। স্যালারি সম্পর্কে ধারণা পেতে সরাসরি Caretutors এর মত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে ভালো, কারণ এটা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হতে পারে এবং প্রতিটা পরিবার ও টিউটরের চাহিদা আলাদা আলাদা।
শুধু স্যালারি না দেখে টিউটরের পড়ানোর মান ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করুন, কারণ কম স্যালারিতে পড়ালেও যদি শিক্ষার্থী কিছু না শেখে তাহলে সেটা আসলে টাকার অপচয়। যাচাইকৃত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে সঠিক বাজেটে ভালো টিউটর নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, কারণ সেখানে আগে থেকেই অনেক অভিজ্ঞ টিউটর যুক্ত থাকে যারা নিয়মিত অ্যাপ্লাই করেন।
সাধারণত শুরুতে যে স্যালারি ঠিক হয় সেটাই বহাল থাকে, তবে ক্লাস বা সময় বাড়ালে বেতনও সেই অনুযায়ী সমন্বয় হতে পারে। এটা সরাসরি টিউটরের সাথে আলোচনা করে ঠিক করে নেওয়া ভালো।
হ্যাঁ,সাধারণত একাধিক শিক্ষার্থী একসাথে পড়লে প্রতিজনের খরচ তুলনামূলক কম হয়, কারণ টিউটরের স্যালারি সবার মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। তবে এতে ব্যক্তিগত মনোযোগ কিছুটা কম পাওয়া যেতে পারে।
সাধারণত অনলাইন ক্লাসে যাতায়াতের সময় ও খরচ বাঁচে বলে এটা তুলনামূলক কম স্যালারি হয়ে থাকে, তবে এটাও টিউটর ও সাবজেক্টের উপর নির্ভর করে।
টিউটর খোঁজার পুরো প্রক্রিয়া এখন আপনার হাতে। Caretutors প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনার Requirement পোস্ট করুন, Applied List দেখে নিজেই টিউটর শর্টলিস্ট করুন, Trial Class দেখুন এবং পছন্দের টিউটরকে Hire করুন খুব সহজে, দ্রুত এবং নিশ্চিন্তে।
SHARE